পঞ্চগড়ে শুরু হয়েছে শীতের আমেজ। দিনে গরম আবহাওয়া থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় শীতের অনুভূতি। রাতভর টিপটিপ করে শিশির পড়ে। ভোরে ফসলের মাঠ, খোলা মাঠের ঘাসের ওপর চিকচিক করে শিশির ফোটা। রাতে ফ্যানের পরিবর্তে নিতে হয় কাঁথা কিংবা হালকা কম্বল। ৩-৪ দিন ধরে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৪ এর মধ্যে ওঠানামা করছে। গতকাল সোমবার সকাল ৭টা পর্যন্ত কুয়াশা ছিল। হিমালয় কন্যা খ্যাত উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে কনকনে শীত অনুভূত হয়। আর অক্টোবরের মাঝামাঝিতে শুরু হয় শীতের আমেজ। নভেম্বরের শুরু থেকেই শীতের তীব্রতা বাড়তে থাকে। প্রতি বছরের মতো এবারও অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে কমতে শুরু করেছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। সপ্তাহ জুড়ে পঞ্চগড় এবং তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। রোববার সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিস। শহরের মিঠাপুকুর এলাকার শামীম আহাম্মেদ বলেন, আমাদের এলাকায় ঠান্ডা শুরু হয়ে গেছে। গভীর রাত থেকে শুরু হয় কুয়াশা এবং ফজরের নামাজের পর পর্যন্ত সেই কুয়াশা থাকে। দিন দিন কুয়াশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। রোববার সকালেও বিভিন্ন এলাকায় কুয়াশা ছিল। রাতে শীতের কারণে আপাতত কাঁথা বের করা হয়েছে। এদিকে দিনে গরম এবং রাতে শীতের কারণে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বাড়ছে শীতজনিত রোগী। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সর্দি, কাশি, নিউমনিয়া ও ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে স্থান সংকুলান না হওয়ায় মেঝে বা বারান্দায় স্থান নিয়েছেন অনেক রোগী। এদিকে শীতের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে স্থানীয় মানুষজন শীতের কাপড় বের করতে শুরু করেছেন। বিশেষ করে রাতে পথচারী ও মোটরসাইকেল চালকদের শীতের কাপড় পরতে দেখা যায়। জেলা শহরের লেপ-তোষক দোকানদারদের কর্মব্যস্ততাও বেড়ে গেছে। অনেকে শীতের আগেই শীতের কাপড় এবং লেপ-তোষক তৈরি করে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনগর বাজারের লেপ-তোষক ব্যবসায়ী আবদুল আওয়াল বলেন, প্রতি বছর এই সময়ে আমাদের কাজের চাপ বেড়ে যায়। এবারো আমাদের ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কাপড় এবং তুলার দাম বেশি হওয়ায় আগের মতো ভিড় নেই। অনেকে সাধ্যের মধ্যে লেপ বানানোর অর্ডার দিচ্ছেন। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আবুল কাশেম বলেন, অন্য এলাকার তুলনায় পঞ্চগড়ে প্রতি বছর কিছুটা আগেভাগেই শীত শুরু হয়। আর ঋতু পরিবর্তনের সময় সাধারণত শিশু ও বয়স্করা ভাইরাসজনিত নানান রোগে আক্রান্ত হয়। এমন রোগীর সংখ্যা হাসপাতালে বেড়ে গেছে। স্থান সংকুলান হচ্ছে না। সীমিত জনবল আর সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আমরা যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ বলেন, রোববার সকালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ২৩ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। সর্বোচ্চ ৩২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। কয়েকদিন ধরে ভোরের দিকে শীতের আমেজ অনুভূত হচ্ছে। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কুয়াশা থাকছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

দিনে গরম রাতে শীত বাড়ছে অসুস্থতা
- আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৪ ০২:১৪:৩৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-১০-২০২৪ ০২:১৪:৩৯ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ